গণিতের ভয় জয়ের উৎসব শুরু
সকাল ছয়টায় মায়ের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয় স্কুলছাত্র বর্ণ
রায়। পরে ইজিবাইক, বাস ও রিকশা বদলে খুলনা জিলা স্কুলে পৌঁছায়। দীর্ঘ পথচলা তার কাছে
আর কষ্টের নয়; বরং আনন্দের। পঞ্চমবারের মতো গণিত অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে এসেছে সে। যশোরের
কেশবপুর পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থী বর্ণ জানায়, ধারাবাহিক অংশগ্রহণের কারণে এখন আর তার
গণিতভীতি নেই।
বর্ণের মতো আরও শিক্ষার্থী নিয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে খুলনা
জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসব ২০২৬’-এর
খুলনার আঞ্চলিক পর্ব। ‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’
স্লোগান
সামনে রেখে গতকাল সিরাজগঞ্জেও গণিত উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দুই জেলাতেই উৎসবকে ঘিরে বই ও শিক্ষাসামগ্রীর বিভিন্ন স্টল
বসে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা স্টল ঘুরে দেখেন, অনেকে বই কেনেন। উদ্বোধনের পর সকাল
১০টা থেকে গণিতের পরীক্ষা হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায়
এ উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি। সহযোগিতা করছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।
খুলনা
শীতের সকাল থেকেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পদচারণে মুখর হয়ে
ওঠে জিলা স্কুল প্রাঙ্গণ। যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী এ উৎসবে অংশ নেয়।
সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে উৎসবের
উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গণিত উৎসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে এবং জীবনের প্রতিটি
ক্ষেত্রে গণিতের গুরুত্ব রয়েছে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক খুলনার উপব্যবস্থাপক মাহমুদুল ইসলাম বলেন,
গণিতের ভয় জয় করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এখানে হার-জিত থাকলেও অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড়
অর্জন। শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের মুখ বিশ্বে উজ্জ্বল করবে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হায়দার আলী
বিশ্বাস বলেন, গণিত কোনো ভয়ের বিষয় নয়, আজকের খুদে গণিতবিদেরাই তা প্রমাণ করবে। সীমাবদ্ধতার
কারণে এবার প্রশ্নোত্তর পর্ব না থাকলেও গণিতভীতি দূর করতেই এই আয়োজন।
উদ্বোধনী পর্বে আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত
ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. আজমল হুদা, লস্কর এরশাদ আলী ও আজিজুর রহমান, ফার্মেসি
ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. আনিসুজ্জামান, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক
মনিশঙ্কর মণ্ডল, খুলনায় প্রথম আলোর প্রতিনিধি উত্তম মণ্ডল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের
প্রধান শিক্ষক ও খুলনা বন্ধুসভার সভাপতি স্বর্ণকমল রায় এবং প্রথম আলো খুলনা বন্ধুসভার
বন্ধুরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খুলনা বন্ধুসভার এম এম মাসুম বিল্যাহ।
সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে গণিত উৎসবের আয়োজন করা হয় কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড
কলেজে। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা এবং বাংলাদেশ
গণিত অলিম্পিয়াড ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের পর বেলুন উড়িয়ে শুরু
হয় উৎসব।
উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক
(উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) শাহাদাত হুসেইন, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ শাখার
ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক জাহিদ
হাসান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন
প্রথম আলোর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আরিফুল গণি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহাদাত হুসেইন বলেন, ‘জীবনের সব ক্ষেত্রে
গণিতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গণিত কোনো ভয়ের বিষয় নয়, আজকের খুদে গণিতবিদেরাই তা প্রমাণ
করবে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সিরাজগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান
বলেন, এই উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বিশ্বে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এখানে
হার-জিত থাকলেও অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় অর্জন।
উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন জ্ঞানদায়িনী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষক আইয়ুব আলী, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পরেশ চন্দ্র,
সিরাজগঞ্জ প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা প্রদীপ সাহা প্রমুখ।
উৎসবে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের
প্রায় ১ হাজার ৭৮ জন শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকেরা
জানান, আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ীদের ফলাফল শিগগিরই বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটে
(matholympiad.org.bd) প্রকাশ করা হবে।
Share with others
Recent Posts
Recently published articles!
-
Abul Hasan