দিনাজপুরে শীতের সকালে গণিত উৎসব, শিক্ষার্থীদের ভিড়
কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ। সড়কে গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। পৌষের শীত জেঁকে বসেছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। এর মধ্যেই দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে শুরু হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থীরা ভিড় করছে।
কুয়াশায় ঢেকে আছে চারপাশ। সড়কে গাড়ি চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। পৌষের শীত জেঁকে বসেছে উত্তরের জেলা দিনাজপুরে। এর মধ্যেই দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে শুরু হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক-প্রথম আলো গণিত উৎসবের আঞ্চলিক পর্ব। হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে গণিতপ্রেমী শিক্ষার্থীরা ভিড় করছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় দিনাজপুর সারদেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ মণ্ডল, গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের দিনাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক অপূর্ব রায়, আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুল হক।
এ সময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় মাসুদুল হক বলেন, ‘প্রাত্যহিক জীবনে সবাইকে গণিত নিয়ে চলতে হয়। তবে অনেকেই আবার গণিতকে ভয় পায়। ইতিহাস পাতায় দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিক সমাজব্যবস্থায়ও গণিত অলিম্পিয়াড হতো। সেই সময়ে বড় বড় দার্শনিক গণিতের চর্চা করতেন। তখন বাঙালিদের মধ্যে যাঁরা গণিত চর্চা করতেন, তাঁদেরও নিজস্ব কিছু পদ্ধতি ছিল। বর্তমানে গণিত নিয়ে এ ধরনের বড় আয়োজন খুদে শিক্ষার্থীদের গণিতের প্রতি আগ্রহী করছে। এই শীতের সকালে দূর–দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি, সেটাই প্রমাণ করে।’
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দিনাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক অপূর্ব রায় বলেন, ‘দুই দশক ধরে ডাচ্–বাংলা ব্যাংক–প্রথম আলোর উদ্যোগে এই গণিত উৎসবের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা হলেও গণিতের ভীতি দূর করতে পেরেছে। সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়তে এ ধরনের আয়োজন অনেকটা সহায়ক হবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মাইকে ভেসে আসে, ‘আমরা করব জয়, আমরা করব জয়।’ গানের তালে সারিবদ্ধভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা। তবে সকাল সাতটা থেকে শিক্ষার্থীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে আসতে শুরু করে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পুরো মাঠ মিলনমেলায় পরিণত হয়। দিনাজপুর ছাড়াও পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ উৎসবে অংশ নিচ্ছে।
ছেলে ফাহমিদ মুজিবকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁও থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছেন ফেরদৌস আরা মুজিব। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে ফাহমিদ নবম শ্রেণিতে পড়ে। ছোটবেলা থেকেই ফাহমিদের গণিতের প্রতি আগ্রহ। তাই গণিত উৎসবে যোগ দিতে গতকাল বুধবার বিকেলেই তিনি ছেলেকে নিয়ে দিনাজপুরে এসে আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন।
আয়োজকেরা জানান, এবার পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ক্যাটাগরিতে উৎসবে অংশ নিয়েছে ৪২৩ শিক্ষার্থী। তবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে মাধ্যমিক বিভাগের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
Share with others
Recent Posts
Recently published articles!
-
Abul Hasan